এক অনশনকারী জানালেন, টাঙালেই খুলে দিচ্ছে পুলিশ। চোখের সামনেই ঘটল এমনটা। কয়েক জন অনশনকারী মহিলাদের উপরে একটি ত্রিপল টাঙানোর জন্য গাছে দড়ি বাঁধতে গেলেন, পাশ থেকে উঠে এলেন ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকা পুলিশ। বাধা দিলেন। কয়েকটি ত্রিপল অবশ্য আছে ফুটপাথের ধার ঘেঁষে, কিন্তু তা অত জন অনশনকারীর জন্য মোটেই পর্যাপ্ত নয়।প্রাকৃতিক কাজকর্ম সারতে একটু দূরের সুলভ শৌচালয়ই ভরসা। পয়সা খরচ করে আব্রুটুকু পাওয়া যায়। কিন্তু মুশকিল হয় রাতে। তখন সুলভ শৌচালয় বন্ধ। “পেছনের ওই ঝোপঝাড়ে, অন্ধকারে কাজ সারি। কী করব বলুন! উপায় কী!”– বললেন এক তরুণী। প্রাকৃতিক নিয়মেই এই ২৭ দিনে ঋতুচক্র এসেছে অনেক মহিলা অনশনকারীর। তাঁদের অবস্থা আরও দুর্বিষহ। ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতা ছাড়াই ব্যবহার করতে হচ্ছে শৌচালয়। এই মুহূর্তে ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনে ভুগছেন একাধিক মহিলা।
ধর্মতলায় প্রেস ক্লাবের সামনে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের যে অনশন চলছে,তাঁদের আলাদা আলাদা লড়াই, যন্ত্রণা, অসুবিধা– সব উপেক্ষা করে এক জায়গায় হয়েছেন। তাঁদের লড়াই, যন্ত্রণা কম-বেশি আলাদা হলেও, দাবি একটাই। পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে যে ন্যায্য ও প্রাপ্য যে শিক্ষকতার চাকরি তাঁদের পাওয়ার কথা, সেটাই পেতে চান তাঁরা। আর যদি চাকরি না-ও পান, তা হলেও তার বিস্তারিত কারণ নথি-সহ জানতে চান। জানতে চান শূন্যপদ ও চাকরিপ্রার্থীর সঠিক সংখ্যা।
এই দাবিটুকু আঁকড়েই ২৭ দিন পেরোল আজ আন্দোলন তথা অনশনের! অনাহারের ২৭ দিন, অসুস্থতার ২৭ দিন, জলে ভেজা রোদে পোড়া ২৭ দিন!





No comments:
Post a Comment